লালমাই পাহাড়ে দার্জিলিং কমলার সুবাসে ব্যবসা‑বৃদ্ধি
লালমাই পাহাড়ে দার্জিলিং কমলার সুবাসে ব্যবসা‑বৃদ্ধি
কুমিল্লা জেলার লালমাই পাহাড়ের লালমতি গ্রাম এখন দেশের প্রথম বাণিজ্যিক দার্জিলিং কমলা চাষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তা মো. তাজুল ইসলাম সাড়ে সাত একর জমিতে কমলা, মাল্টা, আম, লিচু, কলা, লেবু, লটকন ও রামবুটানসহ বিভিন্ন ফলের চাষ করছেন; তার মধ্যে এক একর দার্জিলিং কমলার জন্য আলাদা করে রোপণ করা হয়েছে।
গত বছর তিনি এই বাগান থেকে এক টন কমলা সংগ্রহ করে বাজারে সরবরাহ করেন। এবার তিনি তিন টন কমলা বিক্রি করার লক্ষ্যে আছেন, যা স্থানীয় কৃষি বাজারে নতুন উচ্ছ্বাসের সঞ্চার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা লাইন ধরে বাগান পরিদর্শন করছেন, এবং অনেকেই কমলা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকা‑চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেলতলী বিশ্বরোড থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লালমতি উত্তর পাড়ার পাহাড়ের চূড়া থেকে সূর্যাস্তের শেষ আলো বাগানকে সোনালি রঙে রাঙিয়ে তুলেছে। সারি সারি গাছের ডালপালা থেকে ঝুলে থাকা লাল‑সবুজ কমলা ও তার মিষ্টি গন্ধ প্রথম দেখাতেই দার্জিলিংয়ের কোনো বাগানের স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে।
বাগানে সেচের জন্য পাম্প ও সোলার চালিত সেচ পাম্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা বি‑স্ট্রং প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় স্থাপন করা হয়েছে। সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ও উপজেলা কৃষি অফিসার জোনায়েদ কবির খান ফলের গুণমান বজায় রাখতে ও ফলের পতন রোধে প্রযুক্তিগত পরামর্শ দিচ্ছেন।
মো. তাজুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালে তার মা পরিকল্পনা করে ফল ও সবজি চাষের দিকে মনোযোগ দিতে বলেছিলেন। এরপর থেকে তিনি আপেল, মাল্টা, লিচু ইত্যাদি ফলের চাষ শুরু করেন এবং ২০২৫ সাল থেকে ফল আহরণ শুরু করেন। গত বছর তিনি সাত টন মাল্টা ও এক টন কমলা সংগ্রহ করেন; এবার তিন টন কমলা বিক্রির আশা করছেন, এবং স্থানীয় পাইকারি ক্রেতারা ইতিমধ্যে অর্ডার দিতে শুরু করেছেন।
স্থানীয় কৃষক কামাল হোসেন ও আবদুল আলী বলেন, পাহাড়ে আগে কাঁঠাল, কচুরচড়া ও সবজির চাষ হতো, কিন্তু তাজুলের দার্জিলিং কমলা চাষে তারা মুগ্ধ। তিনি মন্তব্য করেন, "মরা পাহাড়ে যেন নতুন জাদু দেখা দিল।"
সদর দক্ষিণ উপজেলা কৃষি অফিসার জোনায়েদ কবির খানও তাজুলের উদ্যোগকে প্রশংসা করে বলেন, "তাঁর দার্জিলিং কমলা চাষে সাহসিকতা অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণা। আমরা প্রযুক্তি ও পরামর্শের মাধ্যমে তাকে সমর্থন করছি, যাতে লালমাই পাহাড়ে আরও বেশি ফলের বাগান গড়ে ওঠে।"
কমলার গাছের ডালপালা ছাঁটাই, ফল সংগ্রহ ও বাজারজাতের কাজ এখনো চলমান, এবং কয়েক দিনের মধ্যেই প্রথম ব্যাচের ফল স্থানীয় বাজারে পৌঁছাবে। এই সফলতা কুমিল্লা জেলায় বাণিজ্যিক ফল চাষের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
মতামত