শাবিপ্রবিতে ৩৪ বছর পরেও টিএসসি না, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অধিকার বঞ্চিত
শাবিপ্রবিতে ৩৪ বছর পরেও টিএসসি না, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অধিকার বঞ্চিত
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার পর সাড়ে তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে এখনও টিচার্স-স্টুডেন্ট সেন্টার (টিএসসি) বাস্তবায়িত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল মহাপরিকল্পনায় নির্দিষ্ট ডিজাইন ও আয়তন নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে এক ছাদের নিচে সাংস্কৃতিক, বৌদ্ধিক ও সামাজিক চর্চার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
১৯৯২ সালের ৭ ও ৯ মে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় শাবিপ্রবির ৮ নম্বর মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী টিএসসি এবং একটি কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম নির্মাণের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরিকল্পনায় ১,৮০০ বর্গমিটার আয়তনের, চারতলা বিশিষ্ট ভবনে আধুনিক সেমিনার রুম, ছোট মিলনায়তন, ক্যাফেটেরিয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) কার্যালয় এবং রিহার্সেল রুমসহ বিভিন্ন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে প্রায় সাড়ে তিন দশক পরও টিএসসি কেবল মাস্টারপ্ল্যান ফাইলে আটকে রয়েছে। এর অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পাসের ডজনখানেক সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে খোলা আকাশের নিচে বা ভবনের বারান্দায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার দিক থেকে যথাযথ নয়।
শাবিপ্রবির শাখা ছাত্রশক্তির সদস্য সচিব রিয়াজ হোসেন রিমন উল্লেখ করেন, "শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ টিএসসি। প্রশাসনের অনাগ্রহের ফলে এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। আমরা চাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।" একই সময়ে শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র সার্টিফিকেটের স্থান নয়; এখানে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের আদান-প্রদান ঘটে। টিএসসি এই মিথস্ক্রিয়ার জন্য অপরিহার্য, তবে এখনো না থাকায় শিক্ষার্থীরা কো-কারিকুলার কার্যক্রমে যথাযথ সুযোগ পাচ্ছেন না।"
শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারও টিএসসির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণস্পন্দন হলো টিএসসি, যা ছাত্র-শিক্ষকের মেলবন্ধন গড়ে তোলে। শাবিপ্রবি দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়, তাই এখানে টিএসসি প্রতিষ্ঠা জরুরি।" তিনি সব সামাজিক ও রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের জন্য পর্যাপ্ত কক্ষ বরাদ্দেরও দাবি করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. খায়রুল ইসলাম জানান, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসি থাকা দরকার, তবে হুটহুট করে কিছু করা যায় না। আমি মাত্র কয়েক মাসই যোগদান করেছি, তবে এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।" তিনি টিএসসির বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সারসংক্ষেপে, শাবিপ্রবির মহাপরিকল্পনায় নির্ধারিত টিএসসি এখনো নির্মিত না হওয়ায় শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক চর্চা সীমাবদ্ধ। ছাত্রগোষ্ঠীর বাড়তে থাকা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে টিএসসি বাস্তবায়ন করা জরুরি, যাতে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ সমৃদ্ধ হয়।
মতামত