প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
বিটিআরসির টু-জি বিদায় পরিকল্পনা: ২০২৯ সালে বাটন ফোনের শেষ?
||
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আগামী তিন বছরের মধ্যে টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে, যার লক্ষ্য ২০২৯ সালের শেষ নাগাদ টু-জি ভিত্তিক বাটন ফোন সম্পূর্ণভাবে বাজার থেকে সরিয়ে ফেলা।বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ কোটি ১৩ লাখ টু-জি ফোন ব্যবহার করা হচ্ছে, যার অধিকাংশই ভোল্টি (VoLTE) প্রযুক্তি সমর্থন করে না। ফলে নেটওয়ার্ক বন্ধের পরিকল্পনা কার্যকর হলে এই ফোনগুলো আর প্রচলিত মোবাইল কল করতে পারবে না এবং ব্যবহারকারীদের নতুন ডিভাইসে পরিবর্তন করতে হবে।রোডম্যাপের প্রধান ধাপগুলো নিম্নরূপ: ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পরে নতুন কোনো টু-জি হ্যান্ডসেটের মডেল অনুমোদন না করা হবে; ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর টু-জি ফোনের উৎপাদন বন্ধ, এবং একই বছরের ৩০ জুনের পর এসব ফোনের বাজারজাতকরণ বন্ধ হবে; শেষমেশ ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে টু-জি সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে। এই সময়সূচি সরকারী চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।ভোল্টি (VoLTE) হল একটি প্রযুক্তি, যা ফোরজি (4G LTE) নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরাসরি মোবাইল নম্বরে কল করতে সক্ষম করে, আলাদা ইন্টারনেট‑ভিত্তিক অ্যাপের প্রয়োজন হয় না। টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে ভোল্টি‑সক্ষম বাটন ফোনে কল করা সম্ভব থাকবে, তবে ভোল্টি না থাকা টু-জি বাটন ফোনে কল করা যাবে না।গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানান, “গ্রাহকরা ইতিমধ্যে হোয়াটসঅ্যাপ ও অন্যান্য OTT অ্যাপের দিকে ঝুঁকছেন, এবং ভোল্টি‑সক্ষম ফোনের ব্যবহারও বাড়ছে। টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধের পরও মানুষ ফোনে কল করতে পারবে, হয় OTT অ্যাপের মাধ্যমে অথবা ভোল্টি‑সক্ষম ডিভাইসের মাধ্যমে।” রবি আজিয়াটার চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলমও উল্লেখ করেন, “২০২৯ সালের মধ্যে টু-জি ফোন সম্পূর্ণভাবে বাজার থেকে অদৃশ্য হবে; তখন সব ফোন ফিচার ফোন হবে এবং ভোল্টি অথবা অ্যাপ‑টু‑অ্যাপ কলই একমাত্র বিকল্প হবে।”এই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল গ্রাহকদের সাশ্রয়ী বিকল্প প্রদান। বাটন ফোনের দাম সাধারণত ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে থাকে, যেখানে স্মার্টফোনের মূল্য তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। তাছাড়া বয়স্ক ও প্রযুক্তিতে কম অভ্যস্ত ব্যবহারকারীরা টাচস্ক্রিন স্মার্টফোনের পরিবর্তে বাটন ফোনকে সহজ ও পরিচিত মাধ্যম হিসেবে পছন্দ করেন।হ্যান্ডসেট নির্মাতা এডিসন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওএবি) সভাপতি জাকারিয়া শহীদ প্রস্তাব করেন, “ভয়েস ও ডেটা সুবিধা যুক্ত আকর্ষণীয় প্যাকেজ, কিস্তি বিকল্পসহ ফোরজি ফোনের প্রোত্সাহ বাড়ালে টু-জি থেকে ফোরজিতে স্থানান্তর ত্বরান্বিত হবে।” সরকারও এই দিক থেকে পদক্ষেপ নিচ্ছে; তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মামুনুর রশীদ ভুঁঞা টেককানেক্ট ২০২৬ সম্মেলনে জানান, “৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে স্মার্টফোন উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে প্রান্তিক জনগণও আধুনিক ডিভাইস পেতে পারে।”সারসংক্ষেপে, বিটিআরসির টু-জি বন্ধের রোডম্যাপ বাস্তবায়নের জন্য সরকারী অনুমোদন, হ্যান্ডসেট নির্মাতা ও মোবাইল অপারেটরের সমন্বিত উদ্যোগ, এবং সাশ্রয়ী ভোল্টি‑সক্ষম ডিভাইসের সরবরাহ অপরিহার্য। যদিও ফোরজি ও OTT অ্যাপের ব্যবহার বাড়বে, তবে বাটন ফোনের ব্যবহারকারীদের জন্য সুলভ স্মার্টফোনের বিকল্প নিশ্চিত না হলে রূপান্তর ধীর হতে পারে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
যোগাযোগ : 09697716045