প্রিন্ট এর তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীর মধ্যে মারধরের অভিযোগ, সমঝোতায় নিষ্পত্তি
||
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই পুলিশ সদস্য ও একটি সোর্সকে ছিনতাই সন্দেহে তাড়া করে নিয়ে যাওয়ার পর মারধরের অভিযোগ উত্থাপিত হয়; পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়।
টিউশন শেষে ক্যাম্পাসে ফেরার পথে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম ও তার বন্ধু অর্পের পথে তিন ব্যক্তি বাধা দেয়। তারা নিজেদেরকে পুলিশ বলে পরিচয় দিয়ে তল্লাশি শুরু করে, তবে পরিচয় চাওয়া হলে পুলিশ সদস্যরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে হুমকি দেয়। ঘটনাস্থলে অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হওয়ায় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি ঘটে।
পরবর্তীতে সন্দেহজনক পরিচয় নিয়ে শিক্ষার্থীরা তিনজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে তুলে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসে। বাস থেকে নামানোর পর মারধরের অভিযোগ উঠে। পরে প্রোডক্টর অফিসে সিপিএসই হানিফ, কনস্টেবল শ্যামল ও সোর্স জাহিদের পরিচয় প্রকাশে তারা পুলিশ সদস্য হিসেবে নিশ্চিত হন।
ভুক্তভোগী সিফাত হোসেন সিয়াম জানান, "আমরা যখন হাঁটছিলাম, হঠাৎ কেউ এসে বলল আমরা পুলিশ, আমাদের চেক করবে। তারা অর্পের পকেটে হাত দেয় এবং আইডি দেখাতে চাইলেও হ্যান্ডকাফ দেখিয়ে অস্বীকার করে। শেষ পর্যন্ত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে নিয়ে গিয়ে ক্যাম্পাসে তল্লাশি করা হয়।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় একজন ব্যক্তি হস্তক্ষেপ করে পুলিশ হলেও এভাবে আচরণ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোডক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, "পুলিশ সদস্যরাও পরিচয় দিতে চাননি, আর শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি তৎক্ষণাৎ কর্তৃপক্ষের কাছে জানাতেন না। উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল, তাই আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর যৌক্তিক সমঝোতা করেছি এবং তা লিখিতভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটার জন্য আমরা প্রত্যাশা করছি।"
কুমিল্লা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. লুৎফর রহমান জানান, ঘটনায় কোনো গাফিলতি আছে কি না তা নির্ধারণের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রোডক্টর ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
এই ঘটনা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও পুলিশ-শিক্ষার্থী সম্পর্কের সংবেদনশীলতা পুনরায় উন্মোচন করেছে, এবং উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা ও ত্বরিত সমাধানের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
যোগাযোগ : 09697716045