প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬
রিফ্লেক্ট অরবিটাল: মহাকাশে বিশাল আয়না দিয়ে রাতকে আলোকিত করার চ্যালেঞ্জ
||
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক স্পেস স্টার্টআপ রিফ্লেক্ট অরবিটাল রাতের বেলাতেও সূর্যের আলো বিক্রি করার লক্ষ্য নিয়ে একটি নতুন প্রকল্প চালু করেছে। কোম্পানি মহাকাশে বিশাল আয়না স্থাপন করে পৃথিবীর নির্দিষ্ট এলাকায় সূর্যালোক প্রতিফলিত করবে, যা সৌর খামার, দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল ও উদ্ধারকাজে অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি করে।
প্রকল্পের প্রথম ধাপ হিসেবে রিফ্লেক্ট অরবিটাল ১৮ মিটার গুণে ১৮ মিটার মাপের একটি আয়না নিম্ন কক্ষপথে (LEO) প্রেরণের পরিকল্পনা করেছে। এই আয়না সূর্য অস্ত যাওয়ার পরও নির্দিষ্ট অঞ্চলে আলো প্রতিফলিত করতে সক্ষম হবে এবং ব্যবহারকারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে পছন্দের স্থান নির্বাচন করে আলোর পরিমাণ কিনতে পারবে। পরীক্ষামূলকভাবে প্রেরিত আয়না প্রায় ৫ কিলোমিটার বর্গক্ষেত্র আলোকিত করতে পারে, এবং এর দিক পরিবর্তনের মাধ্যমে আলোর বিস্তৃতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।
রিফ্লেক্ট অরবিটাল ২০২৭ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই উদ্বোধনী মিশন চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৫০,০০০টি স্যাটেলাইটের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা রয়েছে, যা চাঁদের আলোকে ছাপিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী আলো সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেয়। স্যাটেলাইটের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আলোয়ের তীব্রতা ও কভারেজও বৃদ্ধি পাবে বলে কোম্পানি দাবি করে।
তবে পরিকল্পনা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশবাদী গোষ্ঠীর কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা উঠে এসেছে। তারা উল্লেখ করে, আয়না থেকে প্রতিফলিত আলো বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে প্রবেশের সময় বিচ্ছুরিত হয়ে অপ্রত্যাশিত এলাকায়ও আলোকিত হতে পারে, যা রাতের আকাশের স্বাভাবিকতা ও বাস্তুতন্ত্রে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৪ কিলোমিটার উচ্চতায় স্থাপিত আয়না থেকে প্রতিফলিত সূর্যালোক পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও উজ্জ্বল হতে পারে। গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে যে, আলোর চাহিদা অতিক্রম করে বিস্তৃত এলাকা আলোকিত হলে, অপ্রয়োজনীয় পরিবেশগত প্রভাব ও মানব স্বাস্থ্যের উপর সম্ভাব্য ঝুঁকি বাড়তে পারে।
মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (FCC) গত জুলাইয়ে রিফ্লেক্ট অরবিটালের এই প্রকল্পকে অনুমোদন দিয়েছে। তবে অনুমোদনের পরেও কিছু জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও পরিবেশ সংস্থা অনুমোদন বাতিলের দাবি জানিয়ে আইনগত চ্যালেঞ্জের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন যদি সফল হয়, তবে এটি শক্তি সরবরাহের নতুন মডেল গড়ে তুলতে পারে, তবে একই সঙ্গে রাতের পরিবেশ ও মানব সমাজের উপর অনিচ্ছাকৃত প্রভাব নিয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। ভবিষ্যতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিজ্ঞানী ও শিল্পের সমন্বিত আলোচনার মাধ্যমে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা ও ঝুঁকি দুটোই সমানভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
যোগাযোগ : 09697716045