প্রিন্ট এর তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ছাড়া কৃষিকাজের কোনো বিকল্প নেই
||
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ এক বাণীতে জানিয়েছেন, কৃষিনির্ভর বাংলাদেশে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে; একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিকল্প নেই।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা‑২০২৬’ উপলক্ষ্যে, আজ বুধবার তিনি আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি, বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত প্রেস কনফারেন্সে এই বক্তব্য দেন। মেলা ৫ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং পল্লি উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়া ও লিমরা ট্রেড ফেয়ারস অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বললেন, সনাতন কৃষিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় শুধু উৎপাদনশীলতা বাড়াবে না, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে কৃষিতে আকৃষ্ট করবে।
তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি কৃষি; খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও টেকসই উন্নয়নে কৃষি ও কৃষকের অবদান অপরিসীম। আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক ও জলবায়ু সহনীয় কৃষি খাতে রূপান্তর করা সরকারের অগ্রাধিকার, এবং এ লক্ষ্য অর্জনে কৃষকের দরজায় সরাসরি আধুনিক প্রযুক্তি পৌঁছে দেয়া, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প ও উদ্যোক্তা বিকাশের কোনো বিকল্প নেই।
মেলাটির মূল উদ্দেশ্য হল গবেষক, প্রযুক্তি উদ্ভাবক, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও কৃষকদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন, নতুন বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরকে ত্বরান্বিত করা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন, আধুনিক কৃষিযন্ত্র, উন্নত বীজ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, শস্য সংরক্ষণ, দুগ্ধ ও পোলট্রি উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি প্রদর্শন ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বর্তমান সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে জনগণ। নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি উপকরণ সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, কৃষি বিমা এবং পণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন সুবিধা সম্প্রসারণে সরকার জোর দিচ্ছে। পাশাপাশি, তরুণ প্রজন্মকে আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বললেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি কৃষিব্যবস্থা গড়ে তোলা যেখানে কৃষক তার শ্রমের ন্যায্য প্রতিদান পাবেন, উৎপাদন হবে অধিকতর লাভজনক এবং গ্রামীণ অর্থনীতি হবে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর। কৃষক ও কৃষির সমৃদ্ধির মাধ্যমে স্বনির্ভর, উৎপাদনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
অবশেষে, প্রধানমন্ত্রী ‘১৪তম আন্তর্জাতিক কৃষি প্রযুক্তি মেলা‑২০২৬’-এর সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
যোগাযোগ : 09697716045