প্রিন্ট এর তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬
দেশের পাঁচটি মেডিকেল কলেজে নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউটের নতুন দিগন্ত
||
ঢাকার বাইরে ক্যানসার, থাইরয়েডসহ জটিল রোগের উন্নত নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য সরকার পাঁচটি নতুন ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএসিএ) এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত 'দেশের ৫টি মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন' বিনিয়োগ প্রকল্পকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫৩৫.৫৪ কোটি টাকা, যা সম্পূর্ণভাবে বৈদেশিক মুদ্রা (জিওবি) তহবিলে মেটানো হবে। একনেকের সভা বুধবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এবং অনুমোদনের পর পরিকল্পনা কমিশন জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩০ পর্যন্ত চার বছরের মেয়াদে কাজ শুরু করবে বলে জানায়।
ইনমাসের নতুন কেন্দ্রগুলো হবে সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নোয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কিশোরগঞ্জ। এই প্রতিষ্ঠানগুলো পিইটি-সিটি, স্পেকট-সিটি, বিএমডি, আল্ট্রাসাউন্ড ও কালার ডপলারসহ আধুনিক ডায়াগনস্টিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাইরয়েড, কিডনি, লিভার, হাড়, হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কের ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগের সাশ্রয়ী নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে।
প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হল পরমাণু চিকিৎসা বিজ্ঞানে দক্ষ বিশেষজ্ঞ তৈরি করা এবং গবেষণার সুযোগ বিস্তৃত করা। পরিকল্পনা কমিশন জানায়, এই উদ্যোগটি এসডিজি-৩ এর লক্ষ্য—অসক্রামক রোগের অকাল মৃত্যু হ্রাস ও মানসিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণ উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
জাতীয় নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও অ্যালাইড সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট (নিনমাস) এর পরিচালক ডা. এ.কে.এম. ফজলুল বারী জানান, "থাইরয়েড ক্যানসার ও সংশ্লিষ্ট রোগের নির্ণয়, প্রগনোসিস ও রেডিওঅ্যাবলেশনসহ সেবার চাহিদা বাড়ছে, তাই নতুন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা ইতিবাচক। তবে সেবা সচল রাখতে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।" বর্তমানে নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেবার জন্য প্রায় ৩০০ চিকিৎসকের প্রয়োজন, কিন্তু মাত্র ১৩০-১৪০ জনই রয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম.এ. মুহিতও জোর দিয়ে বলেন, "বিশেষায়িত ক্যানসার সেবা বিকেন্দ্রীকরণে এই প্রকল্পটি একটি বড় সরকারি উদ্যোগ। অধিকাংশ রোগীকে এখন ঢাকা যেতে হয়; নতুন কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ সেবা নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য।" প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন দেশের স্বাস্থ্যসেবা সমতা ও গবেষণা সক্ষমতা উভয়ই উন্নত করবে।
বিডি প্রতিদিন/জেডএ
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
যোগাযোগ : 09697716045