প্রিন্ট এর তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬
পোশাকশিল্পে মজুরি আন্দোলন তীব্র, রপ্তানি ঝুঁকিতে
||
বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকের আন্দোলন, কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সড়ক অবরোধের ফলে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প চরম অনিশ্চয়তার মুখে। উৎপাদন চালু রাখা কঠিন, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় প্রকাশ করছেন।
উদ্যোক্তাদের মতে, এই অস্থিরতা শুধু উৎপাদন ও রপ্তানি বন্ধই করছে না, দেশের অর্থনীতিকেও নতুন সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। মজুরি বৃদ্ধি না হলে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারিয়ে রপ্তানি আদেশ হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যাবে। প্রায় এক মাসের ধারাবাহিক আন্দোলন গত সপ্তাহে সহিংস রূপ নেয়, যেখানে কারখানাগুলোতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং রাস্তায় গাড়ি-বাসে হামলা ঘটেছে।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ও নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক জানান, ব্যবসা-বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই কঠিন। মুনাফা কমে যাওয়া, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদ, এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মন্দা শিল্পের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বিদ্যুতের দাম মাত্র এক বছরেই ১৬ শতাংশ বেড়েছে।
ফজলুল হক সরকারের উদ্যোগে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত নয় এমন তৃতীয় বা চতুর্থ পক্ষের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপও তদন্ত করা দরকার। গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহিংসতার পেছনে অন্য কোনো গোষ্ঠী জড়িত আছে কি না তা দ্রুত শনাক্ত করতে হবে।
মজুরি বোর্ড গঠনের পরেও আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। জানুয়ারিতে মজুরি নির্ধারণের সময়সূচি ছিল, তবে সরকার দ্রুত বোর্ড গঠন করেছে যেখানে শ্রমিক, মালিক, সরকার এবং নিরপেক্ষ প্রতিনিধিরা আছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মজুরি বোর্ডকে কাজের সুযোগ দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ বিবেচনা করে সমন্বিত প্রস্তাব তৈরি হয়।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক শোভন ইসলামও মজুরি বোর্ডের পরেও চলমান আন্দোলনের কোনো যৌক্তিক ভিত্তি দেখছেন না। তিনি জানান, কিছু কারখানায় শ্রমিকের কোনো অসন্তোষ না থাকলেও বাহ্যিক লোকজনের উসকানিতে ভাঙচুর ঘটছে। রাস্তায় গাড়ি ও বাসে হামলা, ককটেল নিক্ষেপ, আগুন লাগানো—all এসব কাজ শ্রমিক আন্দোলনের অংশ নয়, বরং দুষ্কৃতকারীদের কর্মকাণ্ড।
শোভন ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, শ্রমিক ফেডারেশন নেতারা শ্রম মন্ত্রীর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা করেছেন, তবে বাস্তবে শ্রমিকদের ওপর তাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংখ্যা অপর্যাপ্ত, বি.জি.বির মোতায়েন ধীরগতিতে হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠিন হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটেও চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্পের শুল্কনীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসের উচ্চ মূল্য ও অপর্যাপ্ত সরবরাহ—all এই কারণগুলো পোশাকশিল্পকে প্রভাবিত করছে। তেল ও গ্যাসের সংকটের মাঝেও উদ্যোক্তারা কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করছেন, তবে সহিংসতা ও ভাঙচুরের ঘটনা বিদেশি ক্রেতাদের কাছে শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
শোভন ইসলাম সতর্ক করেন, ক্রেতারা এখন উৎপাদন ও সরবরাহের নিশ্চয়তা চান; অস্থিরতা চলতে থাকলে তারা অন্য দেশে বেশি দামে উৎপাদন করাতে পারে, ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি আদেশ অন্য দেশে সরে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
যোগাযোগ : 09697716045