প্রিন্ট এর তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ানো: দেবপ্রিয়ের ব্যতিক্রমী মন্তব্য
||
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য রবিবার ধানমন্ডি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ: জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত ও আমাদের পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে দেশের এলডিসি তালিকা থেকে বের হওয়ার সময় আরও তিন বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলে মন্তব্য করেন।
ড. দেবপ্রিয়ের মতে, বাংলাদেশ তিনটি নির্ধারিত সূচকে প্রত্যেকেই মানদণ্ডের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক ধাক্কা মোকাবিলার সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় সময় বৃদ্ধির আবেদনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মাথাপিছু জাতীয় আয় (GNI)‑তে দেশটি প্রায় ১৬% অতিরিক্ত, মানবসম্পদ সূচকে ১৭% এবং অর্থনৈতিক‑পরিবেশগত ভঙ্গুরতা সূচকে প্রায় ৩২% উন্নতি করেছে। ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এই ধারাবাহিক অগ্রগতি বাংলাদেশকে ইউএন‑এর ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনকারী অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ পরপর দুটি মূল্যায়নে, অর্থাৎ ছয় বছর ধরে মানদণ্ড পূরণ করলে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে যায়। মূলত ২০২৪ সালে বাংলাদেশকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তবে কোভিড‑১৯ মহামারীর প্রভাবের কারণে প্রস্তুতির সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
সময় বৃদ্ধির অনুরোধের পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি চিঠি রয়েছে। তিনি এপ্রিলে জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে অতিরিক্ত তিন বছর সময় চেয়ে লিখেছিলেন। একই সময়ে নেপালও অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করেছে এবং উভয় দেশই এই সুবিধা পেয়েছে। সিপিডির নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন সরাসরি সময় বাড়ানোর কারণ নয়, তবে গণতান্ত্রিক উত্তরণের সময় অর্থনীতিতে সৃষ্ট জটিলতা ও বৈশ্বিক শক মোকাবিলার ক্ষমতা হ্রাসকে উপেক্ষা করা যায় না।
ড. দেবপ্রিয় জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠি লিখে সময় বাড়ানোর আবেদন করা কেবল প্রক্রিয়াগত বিষয় নয়; এটি সরকারের রাজনৈতিক দায়িত্ব ও মালিকানা গ্রহণের স্পষ্ট সংকেত। আন্তর্জাতিক স্তরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ওয়াইসিএস দেশগুলো বাংলাদেশের অনুরোধের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিল। অন্যদিকে, কিছু বড় দেশ ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের কিছু রাষ্ট্র এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে, কারণ তারা সফল অর্থনীতিকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয় বলে মনে করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ ও অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খানও উপস্থিত ছিলেন। সময় বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের এলডি-সি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে এবং ভবিষ্যতে উন্নয়ন নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক প্রভাব ফেলবে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
যোগাযোগ : 09697716045