প্রিন্ট এর তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
কুয়েটের শৃঙ্খলা ভঙ্গের ফল: ৫ শিক্ষক ও ২ কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১১৫তম সিন্ডিকেট সভায় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পাঁচজন শিক্ষক ও দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
সিদ্ধান্তের ভিত্তি ছিল বিভিন্ন নিয়োগ আইন লঙ্ঘন, ভুয়া অভিজ্ঞতা উপস্থাপন, এবং সাময়িক বরখাস্তের সময় অনুপস্থিতি। তদন্তে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শীল, আইইএমের অধ্যাপক ড. সুব্রত তলাপাত্র, ইএসই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিবিড় মন্ডল, মানবিক ও ব্যবসা বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসরুরা মোস্তফা এবং সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার রোমানসহ পাঁচজন শিক্ষক এবং ডেপুটি রেজিস্টার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রি ও অফিস সহায়ক সত্যজিৎ কুমার দত্তকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
ড. পিন্টু চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত আরোপ করা হয়। বরখাস্তের সময় তিনি ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত ছিলেন এবং দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তার নাম প্রকাশিত হলেও কুয়েটের অনুমতি ছিল না, যা শাস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ড. সুব্রত তলাপাত্র ২০১০ সালে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন, তবে তার বয়স ৩০ বছরের বেশি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নীতি লঙ্ঘন করে। একইভাবে, ড. মাসরুরা মোস্তফা ও সহকারী অধ্যাপক শাহরিয়ার রোমান বয়স ও ডিগ্রি শর্ত পূরণ না করেও ভুয়া তথ্য দিয়ে পদ গ্রহণ করেন। শাহরিয়ার রোমানের ক্ষেত্রে দুইটি গবেষণা পেপারও অস্তিত্বহীন বলে পাওয়া যায়।
সরকারি শিক্ষক নিবিড় মন্ডল প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে দাখিল করেন, যা নিয়োগ আইনের পরিপন্থী। সাময়িক বরখাস্তের সময় তিনি অনুমতি ছাড়া বিদেশে গিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে না এসে চাকরি হারান। ডেপুটি রেজিস্টার নিমাই চন্দ্র মিস্ত্রি সেকশন অফিসার পদে মিথ্যা অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন, আর অফিস সহায়ক সত্যজিৎ কুমার দত্ত জাতীয় পরিচয়পত্রের বয়স কমিয়ে চাকরি গ্রহণ করেন।
বরখাস্তের পর নিমাই চন্দ্র ও নিবিড় মন্ডল উচ্চ আদালতে রিটের আবেদন দায়ের করলেও কুয়েট রেজিস্টার কার্যালয় জানায় যে তাদের বিষয়গুলো আইনগতভাবে সমাধান হয়েছে এবং রিটের সময়সীমা ছয় মাসের বেশি নয়।
কুয়েটের প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান ভূঞা যুগান্তর রেজিস্টার অফিসের মুখে উল্লেখ করেন, "সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাঁচজন শিক্ষক ও দুইজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, কারণ তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে অভিযোগ ছিল এবং তদন্তে যথাযথ ব্যাখ্যা না পাওয়া গিয়েছে।" এই পদক্ষেপের ফলে ক্যাম্পাসে সাময়িক তোলপাড়ের আশঙ্কা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার সংকল্প প্রকাশ করেছে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত