প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শেখ হাসিনা ও ১০ সহ-আসামির বিরুদ্ধে আইসিসি অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালের বন্দুকযুদ্ধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল‑২ (আইসিসি‑২) আজ শোনাবে রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ গঠনের প্রস্তাব। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ মোট এগারোজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে, যা দেশের রাজনৈতিক ও আইনি পরিপ্রেক্ষিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।
শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত শোনানিতে ট্রাইব্যুনাল‑২-র চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল উপস্থিত থাকবে। প্যানেলটি অভিযোগ গঠনের বৈধতা, প্রমাণের যথার্থতা এবং মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারণের দায়িত্বে থাকবে।
প্রসিকিউশন জানায়, মূলত ২৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শোনানির দিন নির্ধারিত ছিল, তবে পূর্ণ বেঞ্চের অনুপস্থিতির কারণে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন মেনে আজকের তারিখে শোনানি নির্ধারিত হয়েছে। আজকের শোনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে সব এগারোজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হবে।
বর্তমানে মামলায় চারজন আসামী গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছে। তারা হলেন কক্সবাজার‑৪ আসনের প্রাক্তন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের প্রাক্তন মহাপরিচালক কর্নেল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে) আনোয়ার লতিফ খান।
অবশিষ্ট সাতজন আসামি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রাক্তন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইজিপি (পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক) বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান, ডিজিএফআইয়ের সাবেক স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৭ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেয় এবং ২৫ আগস্ট আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয়। তবে নির্ধারিত হাজিরার দিনে গ্রেপ্তার চারজন উপস্থিত হলেও বাকি সাতজন আত্মসমর্পণ করেননি। ২৬ জুলাইই ১১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৬ মে ২০১৮ রাত ১০:৩০ টার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার মেরিন ড্রাইভের সাগরতীরে র্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। একরামুল টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।
প্রসিকিউশন এই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে আটক, অপহরণ, বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে গুলি করে হত্যা, অপরাধ সংঘটনে সংশ্লিষ্টতা, প্ররোচনা, সহায়তা ও হত্যার নির্দেশ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে।
শুনানির ফলাফল আইসিসি‑এর পরবর্তী প্রক্রিয়াকে নির্ধারণ করবে এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থার অধীনে বাংলাদেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের ওপর কী ধরনের আইনি প্রভাব পড়বে তা স্পষ্ট করবে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত