প্রিন্ট এর তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ||
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সরকার গড়ছে পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার: ফ্যামিলি কার্ডে সামাজিক নিরাপত্তা বদলাবে
নিজস্ব প্রতিবেদক ||
দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সরাসরি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছে। এই ডাটাবেসের ভিত্তিতে "ফ্যামিলি কার্ড"কে একক সামাজিক নিবন্ধন ও অর্থপ্রদানের প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করা হবে, যাতে একই তথ্যভিত্তি ব্যবহার করে উপকারভোগী নির্বাচন নির্ভুল এবং ত্বরান্বিত হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের আয়, সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও জীবিকার তথ্য সংগ্রহ করে একটি গতিশীল নিবন্ধনভাণ্ডার তৈরি করা হবে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারকে চিহ্নিত করে তাদেরকে কার্ডের আওতায় আনা হবে।
চলতি বছর পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ৭০,৮৬১টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ সহায়তা পেয়েছে। পাইলটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৪১ লাখ পরিবারকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর থেকে সারাদেশে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের বিতরণ ও কর্মসূচি সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রকৃত দরিদ্র ও অস্বচ্ছল পরিবারকে তথ্যভিত্তিকভাবে চিহ্নিত করা। আমরা চাই সামাজিক নিরাপত্তার সুবিধা যেন যোগ্য পরিবারের কাছে পৌঁছে এবং বাদ পড়া দরিদ্র পরিবারগুলোকেও শনাক্ত করা যায়।" তিনি আরও যোগ করেন, "পরিবারের আয়, সম্পদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও জীবিকার তথ্য বিবেচনা করে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে এবং তথ্যভাণ্ডার নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে।"
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ জোর দিয়ে বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডকে শুধু ভাতা বিতরণ কর্মসূচি হিসেবে নয়, একটি সমন্বিত সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই তথ্যভিত্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন নিরাপত্তা কর্মসূচি একসাথে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।" তিনি তথ্যের ধারাবাহিক আপডেটের প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করেন।
তথ্য সংগ্রহের জন্য মাঠে সরাসরি পরিবারগুলোতে গিয়ে ট্যাবলেটের মাধ্যমে সদস্য সংখ্যা, আয়-ব্যয়, সম্পদ ইত্যাদি ডিজিটালভাবে রেকর্ড করা হবে। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলেও অফলাইন মোডে ডেটা সংগ্রহ করা যাবে; পরে নেটওয়ার্ক পাওয়া মাত্র কেন্দ্রীয় ডাটাবেসে আপলোড করা হবে।
মাঠপর্যায়ের কাজের পর্যবেক্ষণও প্রযুক্তিগতভাবে করা হবে; তথ্য সংগ্রহকারীর অবস্থান জিপিএসের মাধ্যমে রিয়েল‑টাইমে ট্র্যাক করা হবে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) শাহ মোহাম্মদ মাহ্বুব বলেন, "তথ্য সংগ্রহের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষণ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাইলট থেকে চিহ্নিত সমস্যাগুলো জাতীয় পর্যায়ে শুরুর আগে সমাধান করা হবে।"
উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত সুপারিশের পরিবর্তে পরিবারের প্রকৃত আর্থ‑সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে। পিএমটি (প্রোডাক্টিভিটি মেট্রিক্স টুল) ব্যবহার করে আয়‑ব্যয়, সম্পদ, বাসস্থান ও জীবনযাত্রার সূচকের ভিত্তিতে স্কোর নির্ধারণ করা হবে।
পাইলট পর্যায়ে কিছু প্রযুক্তিগত সমস্যাও উদ্ভূত হয়েছে; যেমন জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভুল, মোবাইল নম্বরের অভাব এবং ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক অ্যাকাউন্টের সাথে সংযোগের সমস্যা। এই বিষয়গুলো সমাধান করে জাতীয় পর্যায়ে রোল‑আউটের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ভবিষ্যতে ফ্যামিলি কার্ডকে শুধুমাত্র ভাতা গ্রহণের মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ না রেখে, ব্যাংক ও ডিজিটাল আর্থিক সেবার সঙ্গে সংযুক্ত করে সরকারি তহবিল সরাসরি উপকারভোগীর কাছে পৌঁছানো হবে। এতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা কমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
একই সঙ্গে, কার্ডের মাধ্যমে প্রদত্ত সহায়তা পরিবারগুলোর খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থান ও জীবিকার ওপর কী প্রভাব ফেলছে তা মূল্যায়নের জন্য প্রভাব সমীক্ষা চালু করা হবে। পাইলটের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়ন করা হলে, সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় উপকারভোগী শনাক্তকরণ, তথ্য ব্যবস্থাপনা ও অর্থপ্রদান প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন আসবে।
নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন
কপিরাইট © ২০২৬ করাপশন নিউজ বিডি ২৪ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত