<
করাপশন নিউজ বিডি ২৪
প্রকাশ : শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

হাজারো প্রদীপের আলোয় বরিশাল মহাশ্মশানে শ্মশান দীপাবলি উৎসবের রঙিন দৃশ্য

হাজারো প্রদীপের আলোয় বরিশাল মহাশ্মশানে শ্মশান দীপাবলি উৎসবের রঙিন দৃশ্য
হাজারো প্রদীপের আলোয় বরিশাল মহাশ্মশানে শ্মশান দীপাবলি উৎসবের রঙিন দৃশ্য
শ্মশান দীপাবলি, বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান উৎসব, গত শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোমবাতি ও হাজারো প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে নগরীর কাউনিয়া এলাকার প্রায় দুইশ বছরের প্রাচীন বরিশাল মহাশ্মশানকে রঙিন করে তুলেছে। ভুত চতুর্দশীর পুণ্য তিথিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি পূর্বপুরুষ ও প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ, আত্মার শান্তি কামনা এবং শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে। হাজারো মানুষ সমাধিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে, নামকীর্তন, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন; কেউ কেউ প্রিয়জনের পছন্দের ইলিশ মাছ, পায়েসসহ খাবারও নিয়ে আসেন। শ্মশানটি পশ্চিম কাউনিয়া ও নতুন বাজারে ছয় একর জমিতে বিস্তৃত, যার ইতিহাস দুইশ বছরেরও বেশি পুরনো এবং শহরের পত্তনের আগের। ধনাঢ্য জমিদারদের আর্থিক সহায়তায় প্রথমে নতুন বাজারে প্রতিষ্ঠিত, পরে জমির সংকটের কারণে কাউনিয়ায় নতুন শ্মশান গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ৭০ হাজারের বেশি মঠ সমাহিত এই মহাশ্মশানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্মশান হিসেবে পরিচিত, এবং ১৯২৭ সাল থেকে শ্মশান দীপাবলি উদযাপন করা হচ্ছে। এখানে বাংলা সাহিত্যের কবি জীবনানন্দ দাশের বাবা সত্যানন্দ দাশ, পিতামহ সর্বানন্দ দাশ, ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, কালিচন্দ্র ঘোষ, মনোরমা বসু মাসি, এবং রাজনীতিবিদ অশ্বিনী কুমার দত্তের চিতাভস্মসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির সমাধি রয়েছে। ২০১২ সালে কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে অশ্বিনীর চিতাভস্ম এখানে পুনঃস্থাপন করা হয়। উৎসবে অংশ নেওয়া স্বজনরা জানান, প্রতি বছর ভুত চতুর্দশী তিথিতে তারা দূরদূরান্ত থেকে সমাধিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রিয়জনের স্মৃতিকে স্নেহের সাথে স্মরণ করেন। শ্মশান পরিচালনা কমিটি এবং নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা ৩০০ জনেরও বেশি পুলিশ, SRB-8 ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করে যে দর্শনার্থীরা নিরাপদে এই মিলনমেলায় অংশ নিতে পারেন। শ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় ভক্ত উল্লেখ করেন, উৎসবের আগে পুরো শ্মশান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে, সিসি ক্যামেরা ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেন। এভাবে শ্মশান দীপাবলি ও পরদিনের কালীপূজা উভয়ই সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, যা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, স্মৃতির ভাগাভাগি এবং সামাজিক মিলনের এক অনন্য মঞ্চ তৈরি করে।

বিষয় : বরিশাল মহাশ্মশান শ্মশান দীপাবলি ভুত চতুর্দশী ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রদীপ জ্বালানো কালীপূজা শ্মশান ইতিহাস

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

হাজারো প্রদীপের আলোয় বরিশাল মহাশ্মশানে শ্মশান দীপাবলি উৎসবের রঙিন দৃশ্য
0:00 0:00
1.0x
করাপশন নিউজ বিডি ২৪

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


হাজারো প্রদীপের আলোয় বরিশাল মহাশ্মশানে শ্মশান দীপাবলি উৎসবের রঙিন দৃশ্য

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image
শ্মশান দীপাবলি, বরিশালের ঐতিহ্যবাহী শ্মশান উৎসব, গত শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মোমবাতি ও হাজারো প্রদীপের আলোয় আলোকিত হয়ে নগরীর কাউনিয়া এলাকার প্রায় দুইশ বছরের প্রাচীন বরিশাল মহাশ্মশানকে রঙিন করে তুলেছে। ভুত চতুর্দশীর পুণ্য তিথিতে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানটি পূর্বপুরুষ ও প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ, আত্মার শান্তি কামনা এবং শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে। হাজারো মানুষ সমাধিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে, নামকীর্তন, প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন; কেউ কেউ প্রিয়জনের পছন্দের ইলিশ মাছ, পায়েসসহ খাবারও নিয়ে আসেন। শ্মশানটি পশ্চিম কাউনিয়া ও নতুন বাজারে ছয় একর জমিতে বিস্তৃত, যার ইতিহাস দুইশ বছরেরও বেশি পুরনো এবং শহরের পত্তনের আগের। ধনাঢ্য জমিদারদের আর্থিক সহায়তায় প্রথমে নতুন বাজারে প্রতিষ্ঠিত, পরে জমির সংকটের কারণে কাউনিয়ায় নতুন শ্মশান গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে ৭০ হাজারের বেশি মঠ সমাহিত এই মহাশ্মশানটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্মশান হিসেবে পরিচিত, এবং ১৯২৭ সাল থেকে শ্মশান দীপাবলি উদযাপন করা হচ্ছে। এখানে বাংলা সাহিত্যের কবি জীবনানন্দ দাশের বাবা সত্যানন্দ দাশ, পিতামহ সর্বানন্দ দাশ, ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ, কালিচন্দ্র ঘোষ, মনোরমা বসু মাসি, এবং রাজনীতিবিদ অশ্বিনী কুমার দত্তের চিতাভস্মসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির সমাধি রয়েছে। ২০১২ সালে কেওড়াতলা মহাশ্মশান থেকে অশ্বিনীর চিতাভস্ম এখানে পুনঃস্থাপন করা হয়। উৎসবে অংশ নেওয়া স্বজনরা জানান, প্রতি বছর ভুত চতুর্দশী তিথিতে তারা দূরদূরান্ত থেকে সমাধিতে প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রিয়জনের স্মৃতিকে স্নেহের সাথে স্মরণ করেন। শ্মশান পরিচালনা কমিটি এবং নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা ৩০০ জনেরও বেশি পুলিশ, SRB-8 ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত করে যে দর্শনার্থীরা নিরাপদে এই মিলনমেলায় অংশ নিতে পারেন। শ্মশান রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজয় ভক্ত উল্লেখ করেন, উৎসবের আগে পুরো শ্মশান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে, সিসি ক্যামেরা ও আলোকসজ্জা ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত ও অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেন। এভাবে শ্মশান দীপাবলি ও পরদিনের কালীপূজা উভয়ই সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, যা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, স্মৃতির ভাগাভাগি এবং সামাজিক মিলনের এক অনন্য মঞ্চ তৈরি করে।

করাপশন নিউজ বিডি ২৪

নির্বাহী সম্পাদক: মাহমুদুর রশিদ । নিউজ এডিটর: ফিরোজ কাদির শাওন । আইন উপদেষ্টা: সিরাজুল ইসলাম অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট


যোগাযোগ : 09697716045